Wednesday, October 23, 2024

তুরস্কে মহাকাশ কোম্পানিতে স'ন্ত্রা'সী হা'মলা , নিহত ৪

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সম্প্রতি একটি সন্ত্রাসী হামলা ঘটে, যা দেশটির নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটে আঙ্কারার কেন্দ্রে, যেখানে একটি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন, এবং দ্বিতীয় একজন হামলাকারীকে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে হত্যা করে। এই হামলার সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

হামলাকারীরা একটি বাণিজ্যিক গাড়ি ব্যবহার করে স্থানীয় সময় সকাল ৯:৩০ টায় আক্রমণটি চালায়, এবং বিস্ফোরণের ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়। প্রাথমিকভাবে, হামলাকারীদের পরিচয় জানা যায়নি, তবে অতীতে এমন আক্রমণের জন্য কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং ইসলামিক স্টেটের মতো দলগুলিকে দায়ী করা হয়েছে।

এই হামলার পর আঙ্কারার কেন্দ্রে সতর্কতা জারি করা হয় এবং আরও বিস্ফোরণ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। তুরস্কে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে বেশ কয়েকটি বড় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ইসলামিক স্টেট এবং অন্যান্য গোষ্ঠীগুলি জড়িত ছিল।

সূত্র:

  • Al Jazeera
  • The Independent

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ

ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, সরকারের প্রতিনিধিরা তাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হবে। অন্যথায় আবারও অবস্থান কর্মসূচি চালু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) এক ব্রিফিংয়ে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। তারা বলেন, বুধবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আমাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, এবং অনলাইনে যুক্ত ছিলেন আরও কয়েকজন। সেখানে সরকারের প্রতিনিধিরা ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেন।

তারা আরও বলেন, "আমরা জানিয়েছি, যদি বৃহস্পতিবারের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে আবার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবো।"

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, সরকার নীতিগতভাবে একমত হলেও, সমস্যা রাজনৈতিক। আমরা রাজনৈতিক সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছি। এখন প্রশ্ন হলো, বিএনপি গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেবে কি না।

তারা আরও জানান, রোববার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে সমঝোতা সংলাপ আয়োজন করবে ইনকিলাব মঞ্চ, যেখানে বিএনপি-জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সমঝোতা না হলে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ী করা হবে।

তারা বলেন, "আমরা বিএনপিকে সমঝোতায় আনতে চেষ্টা করবো। যদি বিএনপি সম্মত না হয়, তাহলে ছাত্র জনতা কোনো সিদ্ধান্ত নেবে, আর বিএনপি হয়তো সে সুযোগ হারাবে। আমাদের অনুরোধ, বিপ্লব বেহাত হতে দেবেন না।"

এছাড়া, নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে তারা ঘোষণা দেন, ২৫ অক্টোবর বিকেল ৪টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে ছাত্র জনতা মিলে সংবিধান বিলোপের দাবিতে 'লাল কার্ড সমাবেশ' অনুষ্ঠিত হবে।

Wednesday, October 16, 2024

সরকারিভাবে ডিমের দাম বেঁধে দেওয়া হলো।

 বুধবার (১৬ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)-এর প্রধান সমন্বয়ক এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, রাজধানীর প্রধান দুই পাইকারি বাজার তেজগাঁও ও কাপ্তান বাজারে প্রতিদিন ২০ লাখ ডিম সরবরাহ করবে বড় ডিম উৎপাদনকারী খামারগুলো, যা বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে।

প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম ঢাকায় শুরু হলেও এর প্রভাব সারা দেশে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিপিআইসিসি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মসিউর রহমান জানান, সরকার নির্ধারিত দামে ডিম বিক্রি করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং পোল্ট্রি স্টেকহোল্ডাররা মিলে যৌক্তিক উৎপাদন খরচের ভিত্তিতে ডিমের মূল্য নির্ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের এক-চতুর্থাংশ পোল্ট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দৈনিক প্রায় ৬০-৭০ লাখ ডিমের উৎপাদন কমে যায়, ফলে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

তিনি আরও জানান, এই সংকটের সময়ে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। দেশ ও জনগণের স্বার্থে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ১৫ দিনের বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বিপিআইসিসি। এতে প্রতিটি ডিম খামারে ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, পাইকারিতে ১১ টাকা ১ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ১২ টাকায় বিক্রি করা হবে।

ডিম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কাজী ফার্মস, ডায়মন্ড এগস লিমিটেড, প্যারাগন পোল্ট্রি, পিপলস পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি, নারিশ পোল্ট্রি, ভিআইপি শাহাদত পোল্ট্রি, নর্থ এগ লিমিটেড এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। আফিল অ্যাগ্রো এবং প্রাণ অ্যাগ্রোও শিগগিরই এই কার্যক্রমে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ডিমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল: উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি পিস ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, পাইকারিতে ১১ টাকা ১ পয়সা, এবং খুচরা পর্যায়ে ১১ টাকা ৮৭ পয়সা।

Thursday, October 3, 2024

২০২৪ আইসিসি টি২০ নারী বিশ্বকাপ

নিগার সুলতানা, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, ২০২৪ আইসিসি টি২০ নারী বিশ্বকাপ বাংলাদেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার কারণে খেলোয়াড়, পরিবার এবং ভক্তদের ভাঙা হৃদয়ের কথা শেয়ার করেন। তার এই মনোভাবের সঙ্গে একমত হন শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু এবং ইংল্যান্ডের হিদার নাইট, যারা জানেন ঘরের মাঠে আয়োজিত একটি টুর্নামেন্ট নারীদের ক্রিকেটের বিকাশ ও দৃশ্যমানতায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নাইটের নেতৃত্বে ২০১৭ সালে ইংল্যান্ড লর্ডসে ভরা স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে, আর আতাপাত্তু সম্প্রতি ভারতকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কাকে জয়ের পথে নিয়ে যান, যা দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

@সংগৃহীত

এ ধরনের জয়ের ফলে নারীদের ক্রিকেটের যে দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি পায়, তা খেলার বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। স্কটল্যান্ডের ক্যাথরিন ব্রাইসও একথা সমর্থন করেন, তিনি বলেন, আইসিসি নারী টি২০ বিশ্বকাপের কারণে খেলোয়াড়রা আগের চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগ পাচ্ছেন, যা খেলার শাসন ব্যবস্থার উন্নতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দিচ্ছে।

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিদার নাইট নারীদের ক্রিকেটের ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু শাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঘনঘন সময়সূচি পুরুষদের খেলার জন্য যেমন সমস্যার সৃষ্টি করেছে, নারীদের খেলাও সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে একই বিপদের মুখোমুখি হতে পারে। আগামী ৫-১০ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি, যাতে আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট একসঙ্গে বিকশিত হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি এ বিষয়ে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ২০২৪ সালে দ্য হান্ড্রেড ও উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগের সময়সূচি সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেয়েছে, তবে আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রসারিত সময়সূচির কারণে ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। এমনকি হিদার নাইটকেও দ্বিতীয় মৌসুমের উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগ থেকে তার দেশের দায়িত্ব পালনের জন্য নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছিল।

নারী ক্রিকেটে বেতন বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু সমান পরিশ্রমের জন্য সমান বেতনের দাবি তুলে ধরেন। শ্রীলঙ্কার নারী ক্রিকেটাররা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম বেতন পান, যা তাদের আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দেয়। নারীদের ক্রিকেটকে আরও আর্থিকভাবে সমর্থন করার জন্য তিনি বিশ্বের ক্রিকেট বোর্ডগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে আইসিসি নারীদের ক্রিকেটে সমতা আনার জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৪ সালের আইসিসি টি২০ নারী বিশ্বকাপে বিজয়ী দলকে প্রথমবারের মতো $২.৩৪ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার দেওয়া হবে, যা নারী ক্রিকেটের জন্য একটি বড় মাইলফলক। এই উদ্যোগের সাথে নারীদের খেলা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। পরবর্তী বিশ্বকাপে দল সংখ্যা ১২-এ উন্নীত হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১৬-এ পৌঁছাবে। এছাড়া ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তি নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করছে।

সোফি ডিভাইন ও অন্যান্য প্রধান খেলোয়াড়রা আরও টেস্ট ম্যাচ ও বহুদলীয় টুর্নামেন্টের পক্ষে মত দেন। এই আলোচনা নারীদের ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি, এবং নারী ক্রিকেটারদের যথাযথ স্বীকৃতি ও পুরস্কারের দাবি পূরণ করতে হবে।

  • ২০২৪ আইসিসি টি২০ নারী বিশ্বকাপ
  • হিদার নাইটের নারী ক্রিকেটের সুশাসন সংক্রান্ত আহ্বান
  • চামারি আতাপাত্তু নারী ক্রিকেটে সমান বেতনের দাবি
  • নারী ক্রিকেটের বিশ্বব্যাপী বিকাশ
  • ফ্র্যাঞ্চাইজি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সময়সূচি সংঘর্ষ
  • আইসিসি নারী ক্রিকেটে সমান পুরস্কার অর্থের ঘোষণা
  • আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপে সম্প্রসারণ
  • ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট
  • সোফি ডিভাইন টেস্ট ক্রিকেট ও মাল্টি-ফরম্যাট টুর্নামেন্টের দাবি

Monday, September 30, 2024

জানা গেল এইচ এস সি পরীক্ষার তারিখ

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ১৫-১৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে। রোববার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির একজন সদস্য দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

©সংগৃহীত 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, "আমরা ১৫-১৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য অনুমতি চেয়েছি। তবে ৯-১৭ অক্টোবর পর্যন্ত কলেজগুলো ছুটি থাকবে। সেই প্রেক্ষিতে ১৮ বা ১৯ অক্টোবর ফল প্রকাশ হতে পারে। বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভর করছে।"

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, "অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ফল প্রকাশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে, তবে অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়।"

এবারের পরীক্ষায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। প্রথম দফায় আট দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে ১৮ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে তিনবার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তখনও কিছু লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি ছিল। কয়েকবার স্থগিত হওয়ার পর পরীক্ষাগুলো ১১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ২০ আগস্ট শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে সরকার বাকি পরীক্ষা বাতিল করে।

ড. মোহাম্মদ ইউনুস দ্বিতীয় নোবেল পুরষ্কারের আলোচনায়।

ড. ইউনুসের Three Zeros থিয়োরি: “A World of Three Zeros” বইটির আলোকে আরেকটি নোবেল পুরস্কার যে কারণে পেতে পারেন!

ড. মুহাম্মদ ইউনুস, যিনি বিশ্বের কাছে “ড. ইউনিভার্স” নামে পরিচিত, তাঁর মাইক্রোক্রেডিট ধারণার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনে একটি বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন। এই কাজের জন্য তিনি ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। তবে তাঁর অবদান এখানেই শেষ নয়। ২০১৭ সালে প্রকাশিত তাঁর বই “A World of Three Zeros” এ, ড. ইউনুস একটি নতুন এবং সাহসী ধারণা উপস্থাপন করেছেন, যা তিনি “Three Zeros” থিয়োরি নামে পরিচিত করেছেন। এই থিয়োরি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নিয়ে গঠিত: Zero Poverty, Zero Unemployment, এবং Zero Net Carbon Emissions। এই ধারণা বাস্তবায়িত হলে এটি আবারও ড. ইউনুসকে নোবেল পুরস্কারের মঞ্চে নিয়ে আসতে পারে, এবং কেননা এই থিয়োরি আমাদের বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলির সমাধান হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

Zero Poverty: দারিদ্র্যের অবসান

ড. ইউনুসের Three Zeros থিয়োরির প্রথম লক্ষ্য হল Zero Poverty, অর্থাৎ দারিদ্র্যের সম্পূর্ণ অবসান। তিনি বিশ্বাস করেন যে দারিদ্র্য কেবল অর্থনৈতিক সমস্যার ফল নয়, বরং এটি একটি সামাজিক সমস্যা যা সঠিকভাবে সমাধান করা সম্ভব। মাইক্রোক্রেডিট ধারণার মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন যে কীভাবে ছোট ঋণ মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারে। এই মডেলটি দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য কার্যকর একটি উপায় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এবং ড. ইউনুস এখন আরও বড় পরিসরে এই ধারণাকে প্রসারিত করতে চান, যাতে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যের সম্পূর্ণ অবসান সম্ভব হয়।

Zero Unemployment: কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা

Three Zeros থিয়োরির দ্বিতীয় লক্ষ্য হল Zero Unemployment, অর্থাৎ বেকারত্বের সম্পূর্ণ অবসান। ড. ইউনুস বিশ্বাস করেন যে প্রত্যেক মানুষের কর্মসংস্থান একটি মৌলিক অধিকার, এবং এই অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তিনি সোশ্যাল বিজনেস মডেলগুলোর ওপর জোর দেন। এই মডেলগুলো লাভের পরিবর্তে মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হয়, যা কর্মসংস্থান তৈরি করতে সহায়ক। ড. ইউনুস মনে করেন যে এই মডেলগুলো যদি বৈশ্বিকভাবে গৃহীত হয়, তাহলে বিশ্বের সমস্ত মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

Zero Net Carbon Emissions: পরিবেশের রক্ষা

Three Zeros থিয়োরির তৃতীয় এবং সর্বশেষ লক্ষ্য হল Zero Net Carbon Emissions, অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণকে সম্পূর্ণভাবে শূন্যে নামিয়ে আনা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আমাদের গ্রহকে রক্ষা করতে হলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস একটি জরুরি পদক্ষেপ। ড. ইউনুস বিশ্বাস করেন যে সোশ্যাল বিজনেস মডেলগুলোর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলোর প্রসার ঘটানো সম্ভব, যা কার্বন নিঃসরণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। যদি এই মডেলগুলি বৈশ্বিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমিয়ে পৃথিবীকে একটি সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ড. ইউনুস ইতিমধ্যে তাঁর মাইক্রোক্রেডিট ধারণার জন্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন, এবং তিনি দেখিয়েছেন যে একজন ব্যক্তি কীভাবে বৈশ্বিক পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁর “A World of Three Zeros” বইয়ে প্রস্তাবিত Three Zeros থিয়োরি, যা দারিদ্র্য, বেকারত্ব, এবং কার্বন নিঃসরণের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান প্রদান করে, নোবেল পুরস্কারের জন্য একটি শক্তিশালী প্রার্থীতা হতে পারে। এই থিয়োরি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী একটি টেকসই, ন্যায়সংগত, এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

ড. ইউনুসের Three Zeros থিয়োরি আমাদের সময়ের জন্য একটি প্রয়োজনীয় সমাধান হিসেবে দেখা যেতে পারে। যদি এটি বৈশ্বিকভাবে গৃহীত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি তাকে আরও একবার নোবেল পুরস্কারের সম্মান এনে দিতে পারে। তাঁর এই সাহসী এবং প্রয়োজনীয় ধারণা বিশ্বকে একটি নতুন পথে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে সকলের জন্য সমান সুযোগ, দারিদ্র্যমুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব পৃথিবী সম্ভব হবে।

ড. ইউনুস তাঁর কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে মানবতার কল্যাণে কাজ করতে ইচ্ছুক একজন ব্যক্তি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন। তাঁর “A World of Three Zeros” বইয়ে উল্লিখিত Three Zeros থিয়োরি শুধুমাত্র একটি ধারণা নয়; এটি একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা যা আমাদের ভবিষ্যতকে পরিবর্তন করতে পারে। এই থিয়োরির জন্য তাঁর নোবেল পুরস্কারের যোগ্যতা নিঃসন্দেহে প্রাপ্য, এবং আমরা আশা করি যে বিশ্ব এটি গ্রহণ করবে এবং এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একসাথে কাজ করবে।


Saturday, September 28, 2024

যে কথাগুলো আপনার জানা উচিত।

একটি শিক্ষামূলক পোস্ট ::

১. কাউকে একসঙ্গে তিনবারের বেশি ফোন কল করবেন না। যেহেতু আপনার কল রিসিভ হচ্ছে না তার মানে ব্যক্তিটি আপনার ফোন কলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজে ব্যস্ত আছে।

১০/১৫ মিনিট পর আবার চেষ্টা করতে পারেন। 

২. কারো কাছ থেকে টাকা ধার/ঋণ করলে সেটা অবশ্যই ফেরত দিন। যদি ঋণদাতার মনে নাও থাকে তারপরও তাকে সময়মতো ফেরত দিন বা তাকে এমন ভাবে তা পুষিয়ে দিবেন যাতে তার মনে প্রশান্তি আসে। তার সাথে নমনীয় আচরন করুন।

৩. এখনো বিয়ে করোনি কেন কিংবা তুমি নতুন বাড়ি কিনছো না কেন? কাউকে এই ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা থেকে বিরত থাকুন। 

৪. যদি কোন বন্ধু বা সহকর্মীর সঙ্গে রাইড শেয়ার করেন সেক্ষেত্রে আপনার বন্ধু বা সহকর্মী আজকে বিল পরিশোধ করলে কালকে আপনি বিল পরিশোধ করুন।

৫. অন্যের মতামতকে সম্মান জানাতে শিখুন। কারো কথার মাঝখানে কথা বলবেন না। তার কথা শেষ হলে তারপর আপনি কথা বলা শুরু করুন।

৬. কারো সঙ্গে আপনি মজা করতেছেন কিন্তু সে যদি সেটা উপভোগ না করে তাহলে আপনার অবশ্যই থামা উচিত এবং কখনো এরকম আর করবেন না।

৭. কেউ যদি কোনো ছবি দেখানোর জন্য তার ফোন আপনার হাতে দেয় তাহলে নির্দিষ্ট ছবিটি দেখুন গ্যালারির এপাশ-ওপাশ করবেন না।

৮. কারো সঙ্গে কথা বলার সময় স্মার্ট ফোন টিপাটিপি করবেন না।

৯. যতক্ষণ পর্যন্ত কোন বিষয় আপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিজের চরকায় তেল দিতে থাকুন।

১০. কারো ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবেন না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার কাছে উপদেশ চাওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত উপদেশ দিতে যাবেন না। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে যাবেন না।

১১. সবাইকে সম্মান দিতে শিখুন হোক সে রিক্সাওয়ালা কিংবা আপনার অফিসের বস।

১২. কারো বেতন - চাকরি - ব্যবসা এসব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করবেন না।

১৩. কেউ পাসওয়ার্ড দেওয়ার সময় ভদ্রতার সাথে চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে ফেলুন।

১৪. কেউ ন্যূনতম সাহায্য করলে তাকে ধন্যবাদ দিতে শিখুন।

১৫. কারো কাছ থেকে কোনো কিছুতে উপকৃত হলে তার যথাযথ মূল্যায়ন করুন।

১৬. বন্ধুত্বের উপর সবসময় বড় আবদারের  আশা করে থাকবেন না।

১৭. সবসময় কোনো কিছু ফ্রি - তে পাওয়ার আশায় থাকবেন না।

১৮. কারো দোষ জানা থাকলে তা গোপন রাখুন। অপপ্রচার  করবেন না। 

১৯. কারো কোনো কিছু নিয়ে হিংসা করবেন না। নিজে চেষ্টা করুন। হয়তো আপনিও পারবেন। 

২০. ছোট-বড় সবার সাথে মাধুর্য্যপূর্ণ আচরন করুন। আপনার সাথে কারো মতের মিল না থাকলে তর্ক না করে তার সঙ্গ এড়িয়ে চলুন। 

২১. বন্ধুত্বের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হলে তার দোষ রটনা করবেন না।

২২. কাউকে খোঁটা দিবেন না।

২৩. কোনো বিষয়ে কম জানা থাকলে তা নিয়ে অন্যের  সাথে তর্ক করবেন না।

২৪. ছোট-বড় কাউকে লজ্জা দিয়ে কথা বলবেন না। বিধর্মীদের তুচ্ছ করে কথা বলবেন না।

 ২৫. যে আপনার উপদেশ মানে না তাকে উপদেশ দিতে  যাবেন না অর্থাৎ উলু বনে মুক্তা ছড়াবেন না।

ধৈর্য্য সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

একটা বই পড়া মেয়ে অতঃপর!

একটা বই পড়া মেয়ের গল্প:

একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করতো একটি মেয়ে, নাম তার সোনা। সোনার জীবনে বই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। প্রতিদিন সন্ধ্যার সময়, যখন গ্রামের সবাই বাড়ি ফিরে আসত, সোনা বসে থাকত বড় একটি গাছের তলায়, হাতে একটি বই নিয়ে। তার চোখে মুখে এক ধরনের শান্তি ছিল, যা অন্যদের মাঝে দেখা যেত না। বই পড়তে পড়তে কখনো সে হাসত, কখনো আবার তার চোখে এক ধরনের গভীর ভাব চলে আসত।

গ্রামের অন্য শিশুরা যেখানে খেলাধুলায় মেতে থাকত, সোনা সেখানে তার বইয়ের পাতায় ডুবে থাকত। তার মা প্রায়ই বলতেন, "বই তো পড়ে, তবে বাইরে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে খেলো না কেন?" কিন্তু সোনা জানত, বইয়ের মাঝে যে জ্ঞান এবং স্বপ্ন রয়েছে, তা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খেলাধুলা।

একদিন, গ্রামের স্কুলের শিক্ষক সোনাকে বললেন, "তুমি যে পরিমাণ বই পড়ো, তার ফলে তুমি খুবই বিশেষ কিছু করতে পারো।" সোনা একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "কী করতে পারব আমি?" শিক্ষক হেসে বললেন, "তুমি হতে পারো একদিন একজন বড় লেখক, বা সমাজ সংস্কারক। বই পড়েই তুমি নিজেকে চিনবে, আর নিজের চারপাশটাও পরিবর্তন করতে পারবে।"

সোনার চোখে স্বপ্নের নতুন একটা আভা দেখতে শুরু হলো। সে বুঝতে পারল, বই শুধু আনন্দ দেয় না, জীবনের উদ্দেশ্য এবং দিকও দেখায়। তার পর থেকে সোনা আরও বেশি বই পড়তে শুরু করল। প্রতিটি বই তাকে নতুন কিছু শিখাতো, নতুন ভাবনা এনে দিতো, এবং তার মনকে আরও খোলামেলা করে তুলত।

সময় চলে গেল, সোনা বড় হয়ে গেল। একদিন সে তার গ্রাম থেকে বের হয়ে শহরে পড়াশোনা করতে গেল। সে জানত, তার বইয়ের জ্ঞান একদিন তাকে বড় কিছু করতে সাহায্য করবে। আর সত্যিই, সোনা একদিন একজন প্রখ্যাত লেখক হয়ে ফিরে এল গ্রামে। তার বইগুলো এখন সারা দেশে জনপ্রিয়, আর সোনা জানতো, তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল বইয়ের সাথে তার অটুট সম্পর্ক।