একটা বই পড়া মেয়ের গল্প:
একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করতো একটি মেয়ে, নাম তার সোনা। সোনার জীবনে বই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। প্রতিদিন সন্ধ্যার সময়, যখন গ্রামের সবাই বাড়ি ফিরে আসত, সোনা বসে থাকত বড় একটি গাছের তলায়, হাতে একটি বই নিয়ে। তার চোখে মুখে এক ধরনের শান্তি ছিল, যা অন্যদের মাঝে দেখা যেত না। বই পড়তে পড়তে কখনো সে হাসত, কখনো আবার তার চোখে এক ধরনের গভীর ভাব চলে আসত।
গ্রামের অন্য শিশুরা যেখানে খেলাধুলায় মেতে থাকত, সোনা সেখানে তার বইয়ের পাতায় ডুবে থাকত। তার মা প্রায়ই বলতেন, "বই তো পড়ে, তবে বাইরে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে খেলো না কেন?" কিন্তু সোনা জানত, বইয়ের মাঝে যে জ্ঞান এবং স্বপ্ন রয়েছে, তা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খেলাধুলা।
একদিন, গ্রামের স্কুলের শিক্ষক সোনাকে বললেন, "তুমি যে পরিমাণ বই পড়ো, তার ফলে তুমি খুবই বিশেষ কিছু করতে পারো।" সোনা একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "কী করতে পারব আমি?" শিক্ষক হেসে বললেন, "তুমি হতে পারো একদিন একজন বড় লেখক, বা সমাজ সংস্কারক। বই পড়েই তুমি নিজেকে চিনবে, আর নিজের চারপাশটাও পরিবর্তন করতে পারবে।"
সোনার চোখে স্বপ্নের নতুন একটা আভা দেখতে শুরু হলো। সে বুঝতে পারল, বই শুধু আনন্দ দেয় না, জীবনের উদ্দেশ্য এবং দিকও দেখায়। তার পর থেকে সোনা আরও বেশি বই পড়তে শুরু করল। প্রতিটি বই তাকে নতুন কিছু শিখাতো, নতুন ভাবনা এনে দিতো, এবং তার মনকে আরও খোলামেলা করে তুলত।
সময় চলে গেল, সোনা বড় হয়ে গেল। একদিন সে তার গ্রাম থেকে বের হয়ে শহরে পড়াশোনা করতে গেল। সে জানত, তার বইয়ের জ্ঞান একদিন তাকে বড় কিছু করতে সাহায্য করবে। আর সত্যিই, সোনা একদিন একজন প্রখ্যাত লেখক হয়ে ফিরে এল গ্রামে। তার বইগুলো এখন সারা দেশে জনপ্রিয়, আর সোনা জানতো, তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল বইয়ের সাথে তার অটুট সম্পর্ক।







0 comments:
Post a Comment