২৩ বছর আগে ১১ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। এই হামলায় নিহত হন ৭৮টি দেশের প্রায় ৩,০০০ মানুষ। এই হামলার পরপরই পালটে যায় বিশ্বের রাজনীতি। হামলার অযুহাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশে বর্বরতা চালান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। এমনকি, পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামলা হয় নিরপরাধ সাধারণ মুসলিমদের উপর।
![]() |
| ছবি: টুইট টাওয়ার |
সেদিন ছিল মঙ্গলবার। সকালে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ বস্টন থেকে লস এঞ্জেলেসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিমানে ৮১ যাত্রী এবং ১১ ক্রু মেম্বার ছিলেন। উড়ানের ১৫ মিনিট পর ৫ জঙ্গি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যাত্রী ও পাইলটদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিমানের গতিপথ নিউইয়র্কের দিকে পরিবর্তন করে।
সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আছড়ে পড়ে। টাওয়ারটির ৮০তম তলায় বিমানটি আঘাত করে, যার ফলে শত শত মানুষের মৃত্যু হয় এবং ভবনে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এক স্কুল পরিদর্শনে ছিলেন এবং বিমান দুর্ঘটনাটি একটি ভুলবশত বলে মনে করেন।
কিছুক্ষণ পর দক্ষিণ টাওয়ারে আরও একটি বিমান আছড়ে পড়ে, যা স্পষ্ট করে দেয় এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। প্রেসিডেন্ট বুশকে জানানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের উপর হামলা হয়েছে। তিনি তখনো স্কুল পরিদর্শন চালিয়ে যান।
পরে জানা যায়, মোট ৪টি বিমান হাইজ্যাক করা হয়েছে। ১৯ জন হাইজ্যাকারের মধ্যে ৩টি বিমানই আত্মঘাতি হামলা সংগঠিত করে। ৯টা ৪৫ মিনিটে তৃতীয় বিমানটি পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে, যা পেন্টাগনের পশ্চিম দিকের ভবনকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়।
চতুর্থ বিমানটি ওয়াশিংটন ডিসির দিকে যাচ্ছিল, যার লক্ষ্য হতে পারে হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেস। তবে বিমানের যাত্রীরা হাইজ্যাকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং বিমানটি রাজধানীর কাছে একটি খোলা মাঠে আছড়ে পড়ে।
এই হামলা বিশ্বকে নাড়া দেয়। নিহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে ২,৯৯৬ জন নির্ধারণ করা হয়, যাদের মধ্যে ৭৮টি দেশের নাগরিক ছিলেন। আল-কায়দা হামলার দায় স্বীকার করে এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপ, ইসরাইলকে সমর্থন, সৌদি আরবের সাথে সামরিক চুক্তি ইত্যাদি প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্য বলে জানায়।
৯/১১ হামলার পর, আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামরিক আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে বহু নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপরও হামলা বেড়ে যায়। ২০০১ সালে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হেট ক্রাইমের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং প্রেসিডেন্ট বুশ পেট্রিয়ট অ্যাক্ট নামে একটি আইন পাস করেন, যা নাগরিকদের ব্যক্তিগত কথপোকথন ও ফোনালাপের ওপর নজরদারি করার অনুমতি দেয়।
১১ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনাটি ২৩ বছর পার হলেও এখনও মানুষের মনে দাগ রেখে গেছে এবং বিশ্বজুড়ে এর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এখনও বিদ্যমান।
.jpeg)






0 comments:
Post a Comment